মো: আল-মাহফুজ শাওন
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদ শূন্য বা বাতিল ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন।
রিটকারীর আইনজীবী জানান, বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রিটে আবদুল হান্নান মাসউদের নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য বা বাতিল ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের পরই বিষয়টির আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হবে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে কম বয়সী এমপি হিসেবে পরিচিতি পান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের সংকটের সময়ও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।
পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত হন এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে হাতিয়া আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি জয়লাভ করেন।
এদিকে, হলফনামায় তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে করা রিটের শুনানি হলে আদালত অভিযোগগুলো, নির্বাচনী হলফনামা এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করবেন। শুনানির পর আদালতের আদেশের ভিত্তিতেই আবদুল হান্নান মাসউদের সংসদ সদস্য পদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের পথ তৈরি হবে।
রিট আবেদনটি নিয়ে আদালতের শুনানি ও আদেশের দিকে এখন সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি রয়েছে।








