চার দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ সরকারি সফর সম্পন্ন করে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সফরের সমাপ্তি এবং তাঁর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই চার দিনব্যাপী সফরটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যার মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও উন্নত ও সুদৃঢ় করা।
জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে আয়োজিত ২০তম এশিয়ান গেমসের জমকালো ও বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সেনাপ্রধান আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনের বিশালতা ও বৈচিত্র্য প্রত্যক্ষ করেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অগণিত অ্যাথলেট, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ঐতিহাসিক। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কেবল এই আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত ছিলেন না, বরং গেমসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া ইভেন্টগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা, অ্যাথলেটদের প্রস্তুতি এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা লাভ করেন।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে এই সফরে সেনাপ্রধানের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল দেশের খেলোয়াড়দের পাশে থাকা এবং তাদের মনোবল ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করা। এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের খেলা সরাসরি দেখার পাশাপাশি তিনি তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের সাফল্যের জন্য আন্তরিক উৎসাহ ও দোয়া প্রদান করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মতো বড় মাপের আসরে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একজন কর্মকর্তার উপস্থিতি খেলোয়াড়দের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের মানসিক শক্তি বৃদ্ধিতে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলার পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সফরকালে সেনাপ্রধানের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত কর্মসূচি ছিল অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিওএ) সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই পক্ষই ক্রীড়া ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেন। বিশেষ করে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রমের আরও কার্যকর সমন্বয় এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামো ও পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে কীভাবে বৈশ্বিক সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনার সূত্রপাত হয়। এ ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকগুলো বাংলাদেশের ক্রীড়া কূটনীতিকে (Sports Diplomacy) একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ও সুদৃঢ় সম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সফরকালে বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত বিভিন্ন আলোচনা সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসব উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের বিষয়টি প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কারিগরি সহযোগিতার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সম্পন্ন হয়।
আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, সেনাপ্রধানের এই সফল জাপান সফর এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাঁর এই উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সামগ্রিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া সংগঠন ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে, বৈশ্বিক ক্রীড়া পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সাফল্য ততই সুসংহত হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এই নতুন ধারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রোববার রাতে দেশে ফেরার মাধ্যমে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের এই চার দিনের অত্যন্ত সফল জাপান সফর সমাপ্ত হলো।
















