মো: মিনারুল ইসলাম

দামুড়হুদা ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠের সামনে মার্কেট স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিলের দাবি নাগরিক সমাজের।

​ আজ রবিবার ১৮ই অক্টোবর ২০২৬ ইং বিকাল ৫:০০ টার সময়

দামুড়হুদা স্টেডিয়ামের-এর একমাত্র ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি রক্ষার দাবিতে এবং মাঠের সামনে বা সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের হঠকারী পরিকল্পনা অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, তরুণ সমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি কুচক্রী মহল জনস্বার্থ ও পরিবেশের কথা না ভেবে জনবহুল এই এলাকার প্রাণকেন্দ্রের মাঠটি গ্রাস করার পাঁয়তারা করছে। খেলার মাঠের সামনে বা এর অংশবিশেষ দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হলে এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবসমাজ তাদের একমাত্র বিনোদন ও খেলাধুলার জায়গা হারাবে। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হবে।

​ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ বলেন, "বর্তমান সময়ে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। অথচ একশ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। আমরা কোনোভাবেই এই এলাকায় মাঠের সামনে বা ভেতরে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা মার্কেট হতে দেব না।"

উক্ত মানববন্ধনে জনগণের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক জনাব নায়েব আলী। তিনি বলেন এই দামুড়হুদা উপজেলা একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলা অথচ এই উপজেলাকে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার আমরা কেউই সেই পরিকল্পনার গ্রহণ করিনা। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তখনই এই উপজেলাকে ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ব্যস্ত হয়ে যায়। ঠিক আমরা তারই বহিীর প্রকাশ দেখতে পাচ্ছি।

দামুড়হুদার ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়াম মাঠ, এই মাঠের সামনে যদি মার্কেট স্থাপন করা হয়। মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হবে, খোলা বাতাস পেতেও অসুবিধা হবে, এমনকি মার্কেটের পিছনে নেশা খোরদের আস্তানা গড়ে উঠবে। এজন্যই মার্কেট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন যারা, তাদেরকে বিনয়ের সাথে বলবো আপনারা এখানেই থেমে যান। অন্যথায় জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিবে। এছাড়াও বক্তব্য দেন আবেদুদ্দৌলা টিটোন, আবুল বাশার রফিকুল ইসলাম জিয়া হাফেজ মাওঃ আব্দুল খালেক, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, ইখতিয়ার উদ্দিন, ওবায়দুল হক এস ওম শিবলুর রহমান আরও অনেকে। বক্তব্য শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিনের কাছে তারা স্মারকলিপি পেশ করেন।

​দাবি ও হুশিয়ারি:

জরুরি ভিত্তিতে এই মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা চিরতরে বন্ধ না করলে এলাকার ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের মানুষকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবেশ ও শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় অবিলম্বে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।