রনি রজব

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খাসপাড়া গ্রামে মোসারুলের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ দাফন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাঁর ছেলে জহুরুল বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বোনদের নামে থাকা জমি-জমা ও সম্পত্তির ভাগবণ্টনকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বাবা-মায়ের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ কি শেষ পর্যন্ত পারিবারিক সম্পর্ক, মানবিকতা এবং মৃত্যুর পর সম্মানজনক বিদায়ের পথকেও বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই এলাকায় ক্যান্সারে আক্রান্ত আফজাল হোসেনকে ঘিরেও সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর একমাত্র ছেলে আসাদুজ্জামান বিশ্বাসের অভিযোগ, তাঁর দুই বোন রেহেনা পারভিন পপি ও মাহমুদা খাতুন লিপি বাবার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি নিজেদের নামে দলিল করে নিয়েছেন। এই বিরোধে বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে ২৯ জুন ২০২৬ তারিখের ১৯৫৮ নম্বর দলিল এবং ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের ২৭৯৬ নম্বর হেবা দলিল। বাবার গুরুতর অসুস্থতা এবং দলিল সম্পাদনের সময় তিনি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রাখতেন কি না, তা নিয়েও নিরপেক্ষ যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। প্রশ্ন হলো, বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় তাঁদের সম্পত্তি নিয়ে সন্তানদের বিরোধ কেন এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে অসুস্থ বাবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা প্রশ্নের মুখে পড়বে, আর মৃত্যুর পর মরদেহ দাফন নিয়েও বিরোধের অভিযোগ উঠবে। এলাকার সচেতন মহলের মতে, সম্পত্তি নিয়ে সন্তানদের মধ্যে মতবিরোধ হতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের সম্মান, চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও মৃত্যুর পর মর্যাদাপূর্ণ বিদায় কোনোভাবেই উপেক্ষিত হতে পারে না। খাসপাড়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, তেমনি আফজাল বিশ্বাসের সম্পত্তি সংক্রান্ত দলিল ও অভিযোগগুলোও আইনানুগভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ সম্পত্তির মূল্য আছে, কিন্তু বাবা-মায়ের জীবন, মর্যাদা ও সন্তানের দায়িত্বের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশি।