রাজধানীর বারিধারা এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মেহেদী হাসান (২৪) নামের এক নির্মাণশ্রমিক। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বারিধারা ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির কালো রঙের প্রাইভেট কারের সরাসরি ধাক্কায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণকাজের ফাঁকে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিতে ফুটপাতে বসেছিলেন মেহেদী। ঠিক সেই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণহীন একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার হঠাৎ ফুটপাতে উঠে তাকে প্রচণ্ড জোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় ও আশপাশের লোকজন দ্রুত গাড়িটির নিচ থেকে মেহেদীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা গাড়িটি ঘিরে ফেলে এবং গাড়িতে থাকা এক কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাজনিত ওই প্রাইভেট কারটি জব্দ করেছে।
গুলশান থানার তদন্ত পরিদর্শক ইসমাইল হোসেন ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “মেহেদী কাজের বিরতিতে ফুটপাতে বসে ছিলেন, তখনই গাড়িচাপায় তার মৃত্যু হয়। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।” পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, আটক কিশোরটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন কর্মকর্তার সন্তান এবং গাড়িটি তাদের পরিবারের। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় একজন চালক গাড়িটি চালাচ্ছিলেন, যাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ঘটনার পর ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে দেখা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি বের হয়ে আসছেন। চালকের আসন অর্থাৎ ডান দিক থেকে কালো টি-শার্ট পরা এক কিশোর এবং অপর পাশ দিয়ে শার্ট পরা এক মধ্যবয়সী ব্যক্তি নামেন। লোকজন ভিড় করলে তারা গাড়ির পাশে অবস্থান করেন, তবে পরে কিশোরটিকে সেখান থেকে সরে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। এক তরুণের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সঠিক তথ্য ও প্রকৃত চালক শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।





















