ফিফা আসিয়ান কাপ ফুটবলের প্রস্তুতি নিতে বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। টুর্নামেন্টের আগে দলের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছেন ইংলিশ লিগের তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী। গতকাল থেকে পুরোদমে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রথম দিন থেকেই দলের বাকি খেলোয়াড়দের মনে সাহস জোগাতে সচেষ্ট ছিলেন হামজা।
আসিয়ান কাপে বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে এই তিন দলই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কাগজ-কলমে এই দলগুলোর বিপক্ষে জয়লাভ করা অত্যন্ত কঠিন মনে হলেও, মাঠের লড়াইয়ে যেন কেউ দমে না যায়, সেই বার্তাই দিয়েছেন হামজা। তিনি মনে করেন, জয়ের চেয়েও বড় কথা হলো সাহসের সাথে লড়াই করা এবং নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া।
হামজা চৌধুরীর পরিচিতি বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের কাছে নতুন নয়। জাতীয় দলের জার্সিতে নামার অনেক আগে থেকেই তিনি দেশবাসীর হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ইউরোপের শীর্ষ স্তরের ফুটবলারদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। এর বিপরীতে জামাল ভূঁইয়া, সোহেল রানা বা সাদ উদ্দিনদের মতো খেলোয়াড়রা দেশের বাইরে অন্য কোনো লিগে খেলার তেমন সুযোগ পান না। ফলে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা এবং দেশীয় ক্লাব ফুটবলের মানের মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান বিদ্যমান।
তবে এই আকাশ-পাতাল পার্থক্যের মাঝেও হামজার মাঝে কোনো অহংবোধ নেই। তার বিনয় এবং বড় মনের পরিচয় ফুটে ওঠে তার আচরণের প্রতিটি ভাঁজে। দলের সবার সাথে তিনি মিশে যান সমানভাবে, নিজের জন্য কোনো বিশেষ সুযোগ বা আলাদা সুবিধা দাবি করেন না। তার এই ব্যক্তিত্ব দলের বাকি সদস্যদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।
অনুশীলনের মাঠে হামজা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, 'আমরা এখানে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়াকে ভয় পেতে আসিনি। তারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক ওপরে হতে পারে, কিন্তু আমরা তাদের ভয় পাচ্ছি না।' তার এই একটি কথা দলের বাকি ফুটবলারদের মনে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে। হামজার মতে, মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করা এবং দর্শকদের একটি মানসম্মত ফুটবল উপহার দেওয়া। তিনি বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের ভয় কাটিয়ে যতটা সম্ভব পয়েন্ট সংগ্রহ করা। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কোথায় এবং সেই অনুযায়ী লড়াই করব।'
শেফিল্ডের এই তারকা ফুটবলার বর্তমান আসিয়ান কাপের পোস্টার বয় এবং দলের প্রধান আকর্ষণ। বিনয়ী হামজা মনে করেন, প্রতিপক্ষ দলগুলোর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। ইউরোপের সর্বোচ্চ স্তরে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি তা কখনোই অন্যদের সামনে জাহির করেন না। যদিও বাংলাদেশের বর্তমান ফুটবলারদের সাথে তার দক্ষতার ব্যবধান স্পষ্ট, তবুও তার উপস্থিতি দলের সামগ্রিক মান বাড়িয়ে দিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এবার আসিয়ান কাপে বাংলাদেশ ভালো কিছু অর্জন করবে। আগামীকাল বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।





















