বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা এবং গুলি চালানোর ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি খাদিজা আক্তার উর্মিকে ফের গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদিয়া আক্তার সেতু। মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে ধানমন্ডি ৩ নম্বর রোডে ল্যাবএইড হাসপাতালের বিপরীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলছিল। ওই সময় আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। হামলায় মো. সজিব ইসলাম নামের ৩২ বছর বয়সী এক যুবক পিঠে ও কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। এ ছাড়া দণ্ডবিধি ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্তে ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সঙ্গে খাদিজা আক্তার উর্মির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামি আগে থেকেই অপর একটি মামলায় কারাগারে থাকায় এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন বলে আবেদনে জানানো হয়। আদালত আবেদন পর্যালোচনা করে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে শাহবাগ থানায় দায়ের হওয়া মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হন খাদিজা আক্তার উর্মি। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




















