ফেনী প্রতিনিধি
তালাক দেয়া দ্বিতীয় স্ত্রীকে ঘরে তুলে বিপাকে পড়েছেন কাতার প্রবাসী জামাল হোসেন, এ নিয়ে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে পারিবারিক কলহে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে দৃটি পরিবারের নেমে এসেছে কালো মেয়ের ছায়া। এ কলহের জেরে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ঘরে থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন জামাল। শুধু তাই নয় প্রথম ঘরের প্রবাস ফেরত পুত্রকেও ঘরে ঢুকতে দিচ্ছেন না জামাল। এদিকে নিজেদের হাতে গড়া স্বপ্নের বাড়িতে নিরাপত্তার ভয়ে নিজেও থাকতে পারছেননা জামাল। ঘটনাটি ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দক্ষিণ খানের বাড়িতে। থানা পুলিশ ও সামাজপতিরাও বিরোধ নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। জামালের প্রথম স্ত্রী ও প্রবাস ফেরৎ সন্তান অন্যের বাড়িতে রাত যাপন করলেও জামাল দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ফেনী শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। দ্বিতল বিশিষ্ট নিজেদের স্বপ্নের বাড়িটি একটি এনজিও সহ কয়েকটি পরিবারের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। একটি ইউনিট খালি থাকলেও কেউ থাকতে পারছেননা।
জামাল হোসেন ছিলেন এক সময় চা দোকান করে জীবীকা নির্বাহ করতেন। ওই সময় ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে তাকে বিয়ে করেন। তার ঘরে একটি পুত্র ও কন্যা সন্তান জন্ম হয়। প্রথম স্ত্রীর ঘরেও তার একটি পুত্র ও কন্যা সন্তান জন্ম হয়। আত্মীয় স্বজনদের চাপে পড়ে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে জামাল ২০০৭ সালে আত্মীয় স্বজনদের আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে কুয়েত চলেন। দ্বিতীয় স্ত্রীও অন্যত্র বিয়ে করেন। সে সংসারেও তার একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়। ২০১৬ সালে জামাল প্রথম ঘরে ছেলে নজরুল ইসলাম কে কুয়েত নিয়ে যান। সেখানে পিতা-পুত্র মিলে একটি দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় অর্জিত টাকা দিয়ে পিতা-পুত্র মিলে ১৮ শতক জমি ক্রয় করে সেটি ভরাট করে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে একটি দ্বিতল বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে জামাল দেশে ফিরে গোপনে তালাক দেয়া দ্বিতীয় স্ত্রীকে ফের বিয়ে করে ফেনী শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা জামালকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন। এ নিয়ে জামাল ফেনীর আদালতে একটি মামলা করেন এবং প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেন। এ খবর পেয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের কর্মস্থল থেকে দেশে ফিরে আসেন প্রথম ঘরের ছেলে নজরুল ইসলাম রাব্বি। কিন্ত ঘরে ঢুকতে চাইলে জামাল, তার দ্বিতীয় ঘরের কন্যার জামাই ও দ্বিতীয় ঘরের পুত্র সন্তান মিলে তাকে ঘরে ঢুকতে বাধা দেন। ঘরে ঢুকতে না পেরে রাব্বি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ ভিডিও ছেড়ে দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। দু'পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশও বিষয়টি আপোষ করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে দুই পক্ষকে আদালতে মামলার পরামর্শ দেন থানা পুলিশ।
একজন প্রবাসী পরিবারের সুখের সংসারে তুষের আগুন জ্বালাতে কি একজন নারীই দায়ী। এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের। এই কলহ দুই ঘরের দুই কন্যার ঘর, দুই স্ত্রীর ঘর ও দুই পুত্র সন্তানের ঘর ছাড়িয়ে এখন গণমাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নেটিজেনরা শুরু করে দিয়েছেন কড়া আলোচনা-সমালোচনা। এটি কি কেবল একটি সামাজিক অবক্ষয়, না কি অর্থের লোভ।
















