রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি নেত্রী ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "ফেরদৌসী মিষ্টির বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় চার্জশিট দাখিল করা হবে। চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তাকে আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে এবং আইনের আওতায় আনা হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে নির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে তিনি মনে করেন।
গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম সামনে আসার পর গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তলব করেন। সেখানে ঘটনার বিষয়ে মিষ্টির দেওয়া জবাব প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি। এরপর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে। সূত্র আরও জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল।
এই চাপের মুখে এবং দলীয় নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। উল্লেখ্য, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে বুধবার রাতেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ওই পুরো কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে, যখন মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল লোক হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে এবং তদন্তের পর এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম আলোচনায় আসে, যার ফলে এই নাটকীয় পদত্যাগের ঘটনাটি ঘটে।
















