হারানো, চুরি হওয়া বা বিনষ্ট পাসপোর্টের পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে সরকার নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের বহির্গমন-৪ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নিয়মানুযায়ী, প্রথমবার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে কেবল নির্ধারিত পাসপোর্ট ফি জমা দিয়েই নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যাবে, এক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে না। তবে দ্বিতীয়বার থেকে প্রতিবার পাসপোর্ট হারানোর ঘটনায় নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দণ্ড ফি হিসেবে প্রদান করতে হবে।

দেশের অভ্যন্তরে পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাসপোর্ট একটি সংবেদনশীল ভ্রমণ দলিল হওয়ায় এর অপব্যবহারের মাধ্যমে মানবপাচার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট বা অনলাইন পোর্টালে বিষয়টি রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জিডির সত্যতা যাচাই করে পাসপোর্ট অফিসে প্রতিবেদন পাঠাবে। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন না পাওয়া গেলে জিডির কপিসহ আবেদন করা যাবে। এরপর অধিদপ্তর ‘লস্ট সার্কুলার’ জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।

যদি ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো ট্রাভেল এজেন্সি পাসপোর্ট আটকে রাখে এবং সেটি উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে আগের পাসপোর্ট ‘রিভোক’ বা বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। এছাড়া স্পেশাল ব্রাঞ্চ তাদের ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তথ্য হালনাগাদ করবে এবং প্রয়োজনে ইন্টারপোলকে অবহিত করা হবে। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটে রিপোর্ট করতে হবে এবং মিশনগুলো লস্ট সার্কুলার জারি করবে। নতুন পাসপোর্টের ডেটাপেজে স্পষ্টভাবে ‘প্রিভিয়াস পাসপোর্ট ইজ রিপোর্টেড টু বি লস্ট’ কথাটি উল্লেখ থাকবে এবং ডাটাবেজে আগের পাসপোর্টের অবস্থা ‘লস্ট/রিভোকড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। তবে পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়গত তথ্য—যেমন নাম, জন্মতারিখ ও বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বা বিনষ্ট পাসপোর্ট জমা দিয়ে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া যাবে, তবে সম্পূর্ণ বিনষ্ট বা শনাক্ত অযোগ্য পাসপোর্টের ক্ষেত্রে হারানো পাসপোর্টের নিয়মই অনুসরণীয় হবে।

এছাড়া, একবার ‘রিভোক’ বা বাতিল করা পাসপোর্ট পরবর্তীতে পাওয়া গেলেও তা আর সক্রিয় করা যাবে না বা বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দ্রুত থানায় বা বিদেশে অবস্থান করলে মিশনে অবহিত করতে হবে। সরকার আগের সব আদেশ ও নির্দেশনা সমন্বয় করে এই নতুন পরিপত্র জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই পদক্ষেপের ফলে পাসপোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এর অপব্যবহার অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আমি এই মুহূর্তের বার্তার একজন কন্টেন্ট এডিটর হিসেবে আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি অবহিত করছি।