বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপন বা যকৃত প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় দক্ষ চিকিৎসক তৈরির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশে ভবিষ্যতে লিভার প্রতিস্থাপনের জটিল অস্ত্রোপচারে কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং টেলিমেডিসিন প্রযুক্তির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রস্তাবও দিয়েছে দেশটি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এসব প্রস্তাব পেশ করেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বাস্থ্যখাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ (MoU) চূড়ান্তকরণ, ওষুধ শিল্পে যৌথ সহযোগিতা এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া, সার্জিক্যাল সরঞ্জাম ও বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও উভয় পক্ষ মতবিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশ থেকে ভ্যাকসিন ও ক্যানসারের ওষুধ রপ্তানির পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি পাকিস্তানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ করার আহ্বান জানান।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, পাকিস্তানের জিআইএমএস (GIMS) বাংলাদেশি চিকিৎসকদের লিভার প্রতিস্থাপন বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রতিষ্ঠানটি কেবল প্রশিক্ষণই নয়, বরং বাংলাদেশে লিভার প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা এবং টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে রোগীদের অস্ত্রোপচার-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী ও মানসম্মত সেবা প্রদানের জন্যও পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
















