বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কৌশলগত খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরালো করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও বিস্তৃত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে নতুন নতুন বাণিজ্যিক ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় হয়। পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং সেখানে দক্ষ জনশক্তির অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের বিপুল ও অত্যন্ত দক্ষ জনশক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় ও দীর্ঘমেয়াদী করার বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।
দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ এবং এ ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং এই খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন নতুন সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি এভিয়েশন, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকস খাতেও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই খাতগুলোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রেলওয়ে ও লজিস্টিকস খাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের এ গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের (আইবিএ) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জ্বালানি, অবকাঠামো, এভিয়েশন, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন।
















