ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে অভিযুক্ত করার প্রেক্ষিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন, কোনো ধরনের বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ার আগেই একটি ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুরভিসন্ধিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রিজভীর দেওয়া এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে দলটি তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করছে।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিজেই বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছেন এবং জবাব দাবি করেছেন। এমতাবস্থায়, একই নীতি অনুসরণ করে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে সরাসরি দায়ী করার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক অপচেষ্টা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, নৈরাজ্য কিংবা জনসম্পদ ধ্বংসের মতো ধ্বংসাত্মক কোনো রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের অপরাধে লিপ্ত থাকে, তবে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় আনা এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো স্থানে সংঘটিত ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে লংমার্চে অংশ নিতে বলা মূল ঘটনার তদন্ত বা দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না। কে বা কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে অপরাধের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দলের নাম জড়িয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় নয়। এ ধরনের ভিত্তিহীন বক্তব্য সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আরও সংযত, তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
জুবায়ের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে উদ্দেশ্য করে বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ জাতির সামনে উপস্থাপন করা উচিত। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই অভিযোগ আনা এবং প্রমাণের আগেই রায় দেওয়ার মতো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিহার করতে হবে। তিনি ট্রেনে ও বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি, ভাঙচুরসহ সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং অপরাধের সুনির্দিষ্ট প্রমাণই হবে তার বিচারের একমাত্র ভিত্তি—এটাই প্রকৃত আইনের শাসনের দাবি।
পরিশেষে, তিনি রিজভীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করার এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে কোনো প্রকার অপপ্রচার বা ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি তাকে আহ্বান জানান।
















