সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কার্যকর হতে যাচ্ছে নবম জাতীয় বেতন স্কেল। চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শিরোনামে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে নতুন এই বেতন স্কেল কার্যকর করার তারিখ ১ জুলাই ২০২৬ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা সবাই সমানভাবে পাবেন না; বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময়ে অবসর গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন যাদের অবসরোত্তর ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং যারা ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করছেন, তারা নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর আওতা এবং বেতন নির্ধারণের বিস্তারিত নিয়মাবলি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত এবং অবসরোত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের জন্য পৃথক ও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
গেজেটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীর অবসরোত্তর ছুটি যদি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে শেষ হয়, তবে তিনি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে অবসর নেবেন। এই ধরনের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে বেতন নির্ধারণের সুযোগ থাকবে না। তবে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে যারা অবসরোত্তর ছুটিতে থাকবেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। তাদের বেতন নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের সংশ্লিষ্ট অনুরূপ স্কেলে নির্ধারণ করা হবে, তবে এই সুবিধাটি শুধুমাত্র পেনশন নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া, অবসরোত্তর ছুটির সময়ে যদি কোনো কর্মচারীর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ পড়ে, তবে সেই বর্ধিত বেতনও পেনশন নির্ধারণের সময় হিসাব করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, অবসরোত্তর ছুটির সময়ে তিনি যে ছুটির বেতন পাবেন, তা পুরোনো বেতন স্কেল অনুযায়ীই প্রদান করা হবে।
গেজেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত যে বেতন স্কেল চালু ছিল, তা ১ জুলাই থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে পুরোনো স্কেলের প্রতিটি ধাপের বিপরীতে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর অনুরূপ স্কেল কার্যকর করা হয়েছে। ফলে, ৩০ জুন একজন কর্মচারী যে মূল বেতন বা গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, ১ জুলাই থেকে সেই বেতনের ভিত্তিতেই নতুন স্কেলে তার বেতন নির্ধারিত হবে।
















