শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার সম্পদের বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ফয়সাল করিম মাসুদ তার আয়ের উৎসের সাথে সংগতিহীনভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং তা ভোগদখল করে আসছেন।
দুদকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে একটি পৃথক মামলা করা হবে। এই মামলার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি, জাল দরপত্র বিজ্ঞপ্তি তৈরি, টেন্ডার সিকিউরিটির অর্থ আত্মসাৎ এবং পরিকল্পিতভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগে ফয়সালসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। দুদকের নথিতে দেখা গেছে, এই জালিয়াতির ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদ ছাড়াও মিডল্যান্ড ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার দুই কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. সারোয়ার হোসেন এবং ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়াকে আসামি করা হয়েছে।
অর্থ পাচারের বিস্তারিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে এর মাধ্যমে দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওই যৌথ উদ্যোগের আওতায় টেন্ডারে অংশগ্রহণের কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি বাবদ মোট ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে-অর্ডার নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জাল ও বানোয়াট ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং সেই হিসাবের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া দরপত্র বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে ইনডিড ক্লাউড বিডির হিসাব থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সাল করিম মাসুদের নিজস্ব কোম্পানি এপল সফট আইটির হিসাবে জমা করা হয়। এরপর সেই অর্থ তার নিজের নামে থাকা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সবশেষে, অপরাধলব্ধ ওই অর্থ তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বেনারশী পল্লী উপশাখায় এফডিআর হিসেবে জমা করা হয়। এভাবে অর্থ স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা ও সহায়তা এবং অপরাধলব্ধ সম্পদ গ্রহণ, দখলে রাখা ও ভোগ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই গুরুতর অপরাধগুলোর দায়ে চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। অন্যদিকে, ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা প্রযোজ্য হবে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
















