জিহাদ হোসেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিভিন্ন শাখার কতিপয় সক্রিয় নেতাকর্মী বেশকিছুদিন ধরে অনলাইন এবং অফলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন কথোপকথনের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও জনসাধারনের ক্ষতি, নাশকতা সৃষ্টি ও ঝটিকা মিছিল করার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার পরিকল্পনা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া ও সাধারণ সম্পাদক সৌয়দ আমিরুজ্জামান রিপন সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগে সংগঠনের ১৯ নেতাকর্মের বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাকেরগঞ্জ থানার এসআই এনামুল হক বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন। এই মামলায় গতকাল পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ নাজমুল আলম বজলুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদ্রোহ এই মামলায় অন্যান্য পলাতক পলাতক আসামীরা হলেন, ভপরাশা ইউনিয়নের যুবলীগের সহ সভাপতি রাসেল খান, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মামুন মৃধা, ১৩নং পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, রিপন হাওলাদার, পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল মুন্সী, যুবলীগের সদস্য মোঃ আনোয়ার হোসেন খান, ১৪নং নিয়ামতি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেল্লাল হাওলাদার, পৌর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজু বিশ্বাস, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান, চরাদি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক । ফারুক মল্লিক, চরামদ্দি ইউনিয়নের যুবলীগের সহ-সভাপতি মোঃ সুমন খান, চরামদ্দি ইউনিয়নের ছাত্রলীগ নেতা ইমন তালুকদার, দাড়িয়াল ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জসিম মোল্লা, দাড়িয়াল ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, ভরপাশা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি

আলমগীর হোসেন সিকদার, রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা মোঃ কারুজ্জামান চুন্নু, গারুড়িয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা মোকসেদ হাওলাদার এই ১৯ জন সহ অজ্ঞাতনামা আরো আসামি রয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সফল করা ও আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম সচল করার লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামীসহ এজাহারনামীয় পলাতক আসামী এবং অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামীরা পরস্পর যোগসাজসে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ঝটিকা মিছিলে অংশ গ্রহণ করার জন্য একত্রিত হয়েছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীসহ পলাতক আসামীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ঘড়যন্ত্র, রাষ্ট্রের সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি সাধনের চেষ্টা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে সহায়তা ও প্ররোচিত করাসহ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার চেষ্টা করে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ৬(২)/৮/৯/১০ ধারার অপরাধ করেছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ডাকুয়া কে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি তদন্ত পলাশ সরকার জানান, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অন্যান্য আসামি গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।