গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বিরোধী দলের লংমার্চ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত পোস্ট করার জেরে খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া খন্দকার জালাল উদ্দীন মাহমুদ দীর্ঘ দিন ধরে জিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার বিরোধী দলের লংমার্চ উপলক্ষে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ে একটি বিশাল পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া ওই সভায় বিরোধী দলের প্রবীণ নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে তাদের রাজনৈতিক দাবি ও কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। এই পথসভাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট ও সভাস্থলে মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও পুরো সময় ধরে সেখানে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি তদারকি করেন।
পথসভাটি শেষ হওয়ার পর জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। ওই পোস্টে লংমার্চের গন্তব্য এবং তাদের মূল দাবিগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়। এছাড়া ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয় যে, লংমার্চটি সকাল ৯টায় জিএমপি-গাজীপুর এলাকায় প্রবেশ করে এবং সকাল ১০টায় ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান শেষে শান্তিপূর্ণভাবে পুনরায় তাদের গন্তব্যের দিকে চলে যায়। ওই পথসভায় আনুমানিক আট থেকে ১০ হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটেছিল বলে জানানো হয়। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার জনাব মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহানসহ উপ-পুলিশ কমিশনারগণ এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ওই লংমার্চের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সরাসরি নিয়োজিত ছিলেন।
তবে এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই পোস্টের কড়া সমালোচনা করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জিএমপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রথমে পোস্টটি সংশোধন করা হয় এবং পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়। এর পরপরই ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে শোকজ করা হয়েছে। প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঞা জানান, ভারপ্রাপ্ত স্টাফ অফিসারকে প্রত্যাহার করে বর্তমানে তাকে হেডকোয়ার্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে।
















