ইরানের প্রস্তাবিত সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ও বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ডব্লিউএসজের ওই প্রতিবেদনে বিষয়টির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। ইরানি পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ-অবরোধ তুলে নেয়, তবে তেহরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দেবে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসবে।
তবে ওয়াশিংটন অত্যন্ত কঠোরভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের ধারণা, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ও তীব্র অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা হলে তেহরান শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাবলি মেনে নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতে বাধ্য হবে। গত সাত মাসের এই চলমান সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পর্যায়ক্রমে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, সামরিক পদক্ষেপ এবং কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমন্বিত কৌশল প্রয়োগ করে আসছেন।
যদিও জনসম্মুখে ট্রাম্প দাবি করে আসছিলেন যে, নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের ঐতিহাসিক চুক্তি হতে পারে, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তেহরান শেষ পর্যন্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্তাবলি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা গত জুনের প্রাথমিক একটি চুক্তির শর্তে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং স্পষ্ট করে বলেছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত মোকাবিলা করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।





















