ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে থেকেই বিভিন্ন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হয়ে এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেন। এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে দেখা যায় প্রতীকী ‘লালকার্ড’, যা দিয়ে তারা নতুন নিয়োগের প্রতি তাদের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ের সড়ক অবরোধ করে ফেলেন, যার ফলে ওই এলাকায় যানচলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক হয়ে নিজস্ব স্বাধীন যাত্রা শুরু করেছে। তাই এই নতুন পথচলায় তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষককে তাদের ওপর কর্তৃত্ব করতে দিতে রাজি নন। তাদের মতে, একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য বাইরের কোনো প্রভাবমুক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে ঢাবির প্রভাব রাখাটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

শিক্ষার্থীরা তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা জানিয়ে বলেন, বর্তমানে তাদের একাডেমিক জীবন চরম সংকটের মুখে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের পরীক্ষা আটকে আছে এবং একাডেমিক মাইগ্রেশনসহ শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তারা গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে তারা দ্রুত কার্যকর সমাধান দাবি করেছেন। তাদের মতে, নতুন উপাচার্য নিয়োগের চেয়ে এখন বেশি জরুরি হলো শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত একাডেমিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সুস্পষ্ট কিছু দাবি রয়েছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে অবিলম্বে তার পদে পুনর্বহাল করা। এছাড়া তারা দাবি জানিয়েছেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিকে দ্রুত ‘স্কুলিং মডেলে’ রূপান্তর করতে হবে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে সব সেশনকে ধারাবাহিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক রোডম্যাপ ঘোষণা করার দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ক্যাম্পাসের মধ্যে যেকোনো একটিতে দ্রুত প্রশাসনিক ভবন চালু করার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় শিক্ষা, প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অবিলম্বে পুরোদমে চালুর দাবি তোলা হয়।

উল্লেখ্য যে, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পদ থেকে অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই দিনে তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।