ঢাকায় যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দ্রুতগতিসম্পন্ন ও সুসংহত করতে মনোরেল চালুর লক্ষ্যে বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। মূলত মেট্রোরেলের যাত্রীদের জন্য 'লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি' বা যাতায়াতের শেষ ধাপের সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে ফিডার সার্ভিস হিসেবে মনোরেল চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই মহাপরিকল্পনার প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশনকে (বিআরটিসি) নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। আগামী মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিটিসিএ ও বুয়েটের মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সমীক্ষার চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকা মহানগর জুড়ে প্রস্তাবিত পাঁচটি করিডোরসহ অন্যান্য সম্ভাব্য রুটগুলো বিস্তারিতভাবে যাচাই ও সমীক্ষা করা হবে। সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) অনুযায়ী, প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল করিডোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে—পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর থেকে বসুন্ধরা (২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার), মধ্য বাড্ডা থেকে ভুলতা (১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার), রামপুরা থেকে ডেমরা (১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার), মোহাম্মদপুর থেকে পোস্তগোলা (১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার) এবং উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর থেকে সাভার (১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার)।

ডিটিসিএ-এর এই সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত সমীক্ষায় রুটের বিন্যাস, সম্ভাব্য স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেল এবং অন্যান্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে মনোরেলের চমৎকার সমন্বয়ের বিষয়টি এই সমীক্ষার অন্যতম প্রধান দিক হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো মেট্রোরেলের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটি নির্বিঘ্ন ও সহজতর সংযোগ নিশ্চিত করা।

ঢাকার অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যেখানে সড়কসংকটের কারণে ভারী অবকাঠামো বা মেট্রোরেল নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব, সেখানে মনোরেল একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। মনোরেল সাধারণত উড়ালপথে চলাচল করায় সীমিত জায়গার মধ্যেও এটি সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। তবে নির্মাণ ব্যয়, যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা, পরিচালন ব্যয় এবং এর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নির্ভর করবে এই সমীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর।

ডিটিসিএর অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত একটি মনোরেল রুট সফলভাবে চালু করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচটি রুট প্রস্তাব করা হলেও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ অনুযায়ী এখন মোট ১৪টি রুট যাচাই করা হচ্ছে। এসব রুটগুলোর মধ্যে সুবিধা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে সবচেয়ে কার্যকর একটি রুট বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হবে। ঢাকায় মনোরেল সেবা চালুর নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।