ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাষ্ট্রপ্রধানের বিদেশ সফরে কোটি কোটি টাকা অপচয় করা হতো বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গমন করেছে ইতিহাসের সবচেয়ে ছোট একটি প্রতিনিধি দল। মাত্র ৩৫ সদস্যের এই দলে সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এত সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধি দল পাঠানোর মাধ্যমে এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিএনপি এবং দলের প্রধান তারেক রহমান অত্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও টিকিয়ে রাখতে বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘ অধিবেশনের এই সফরটি দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় একটি দায়িত্বশীল এবং দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
পূর্ববর্তী শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের সরকারপ্রধান যখন যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশে সফরে যেতেন, তখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাজকীয় সংবর্ধনা ও জমকালো রিসেপশনের আয়োজন করা হতো, যা ছিল চরম অপচয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ধরনের কোনো বাহুল্য বা জমকালো আয়োজন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সাধারণ ও পরিমিতভাবে সবকিছু পরিচালিত হয়।
রিজভী আরও অভিযোগ করেন, অতীতে সরকারি তহবিল বা দূতাবাসের খরচে যে রাজকীয় আয়োজন করা হতো, সেগুলোকে কৌশলে দলের নেতাকর্মীদের দেওয়া চাঁদা বলে চালিয়ে দেওয়া হতো। অথচ সেই অর্থের প্রকৃত উৎস ছিল সাধারণ জনগণের ট্যাক্সের টাকা। তারেক রহমান এই প্রথা বন্ধ করে দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি দেশ ও জনগণের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চালানো বিভিন্ন প্রচারণার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রিজভী বলেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত সব অপপ্রচারই পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি একটি উপমার মাধ্যমে বলেন, "সূর্যের আলোকে আপনি হাত দিয়ে যেমন আড়াল করতে পারেন না, সত্যও ঠিক তেমনই সূর্যের আলোর মতো উদ্ভাসিত ও পরিব্যক্ত। সুতরাং কোনো অপপ্রচারের ঢাকনা দিয়ে সত্যকে দীর্ঘকাল আড়াল করে রাখা সম্ভব নয়।"
এদিন সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এনি, সৈয়দ মুয়াজ্জুম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ এবং দলের অন্যান্য वरिष्ठ নেতৃবৃন্দ।
















