ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি আবাসিক এলাকায় বাসার পেছনের গ্রিল কেটে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়িত একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ এই বিশেষ অভিযানে সুমন, রাসেল ও সানি নামের তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চুরির টাকা দিয়ে কেনা একটি নতুন অটোরিকশাও পুলিশ উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২৫ জুলাই ভোর ৫টার মধ্যবর্তী সময়ে মোহাম্মদপুর থানাধীন চানমিয়া হাউজিংয়ের রোড-৩, ব্লক-বি-এর ৪১/২২ নম্বর বাসার নিচতলায় এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। চোরেরা অত্যন্ত কৌশলে বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে এবং গৃহকর্তা গোলাম মোস্তফার সঞ্চিত ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা নগদ ও প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল ১৪ আনা ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন, ৬ আনা ওজনের দুটি আংটি, ৪ আনা ওজনের দুটি কানের দুল এবং ৮ আনা ওজনের দুটি বালা।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সেখানে এক জোড়া কালো রঙের টাইপযুক্ত স্যান্ডেল উদ্ধার করে। তবে চোরেরা বাসার পেছনের পথ ব্যবহার করায় প্রাথমিক পর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার পরদিন থেকেই সানি, রাসেল ও সুমন প্রচুর পরিমাণ নতুন টাকা নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করছে এবং স্থানীয় দোকানগুলোতে অস্বাভাবিক খরচ করছে। এমনকি এক দোকানদারের কাছে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোন ৫০০ ও ২০০ টাকার নোট দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় তারা বকশিসও দেয়, যা স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এই তথ্যের সূত্র ধরে ঢাকা, বরিশাল ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায় পুলিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে হাজির করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, পুরো চুরির পরিকল্পনাটি করেছিল মানিক নামের এক ব্যক্তি। মানিকের নির্দেশনায় সুমন, রাসেল ও সানি এই অপরাধটি বাস্তবায়ন করে। বর্তমানে মানিক অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকায় তাকে এই মামলায়ও গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।
পরবর্তীতে গতকাল রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে পলাতক রাসেল ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। তারা জানায়, চুরি করা টাকা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছিল এবং প্রত্যেকে সাড়ে চার লাখ টাকা করে পায়। সেই টাকা দিয়ে তারা ঘরের আসবাবপত্র কেনা, জুয়া খেলা এবং মাদক সেবনের পেছনে ব্যয় করেছে। এছাড়া আসামি রাসেল চুরির টাকা দিয়ে একটি নতুন অটোরিকশা তৈরি করে, যা বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, চোরাই স্বর্ণালংকারগুলো কোন দোকানে বিক্রি করা হয়েছে এবং এই চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। বাকি মালামাল উদ্ধারে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
















