রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় চার যুবককে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে মো. আবদুল্লাহ মাসহুর আশরাফীকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেছেন তার বাবা এবং আইনজীবী এ কে এম আশরাফুজ্জামান।

আদালতে ছেলের পক্ষে শুনানি করার সময় এ কে এম আশরাফুজ্জামান দাবি করেন যে, তার ছেলে জুলাই গণ-আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে এই মামলায় অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি আদালতে বলেন, ‘আমি নিজেই জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন যোদ্ধা ছিলাম। আমার ছেলেও এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। সে কখনো জয় বাংলা পর্যন্ত উচ্চারণ করেনি এবং পারিবারিকভাবেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি বিএনপির রাজনীতি করেছি। তাই আমি এই মামলায় ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।’

আদালত কর্তৃক রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া অপর তিন আসামি হলেন- রায়হান, মো. রাসেল খান ও মো. আলাউদ্দিন আহমেদ। তাদের মধ্যে রায়হানের জন্য চার দিনের এবং বাকি তিন আসামির জন্য দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। এদিন কারাগার থেকে চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের জামিন এবং রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তদন্তের স্বার্থে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার অন্তর্গত ধোলাইপাড় ও যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক বক্সের সামনে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। এই আকস্মিক বিস্ফোরণে মো. ইবাদুর রহমান (২৪) নামের এক পথচারী আহত হন। ঘটনার পরপরই ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে এবং তা নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩ ও ৬ ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। সেই অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল এবং চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। গত রবিবার চার আসামিকে আদালতে হাজির করে গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। সেদিন আদালত তাদের কারাগারে পাঠিয়ে মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন।