রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিনকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মহিনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস এবং বিচারপতি সৈয়দ হাসান যুবাইরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত সোমবার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ ও রুল জারি করেন। তবে বিষয়টি আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশ্যে আসে।

এই বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা শাজিয়া শারমিন গণমাধ্যমকে জানান, মহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় হাইকোর্ট তাকে এই হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান ভিন্ন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেছেন, জামিনের এই আদেশ স্থগিত করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ দ্রুতই 'লিভ টু আপিল' বা আবেদনের প্রস্তুতি নেবে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ৯ জুলাই মিটফোর্ড হাসপাতালের নিকটবর্তী রজনী ঘোষ লেনে এক끔 নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং ইট-পাথরের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। এই নৃশংস ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পরদিন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত এই মামলায় মোট ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। উল্লেখ্য, হাইকোর্টে জামিন আবেদনের শুনানির সময় মাহমুদুল হাসান মহিনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আইনি যুক্তি উপস্থাপন করেন।