দেশের পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোতে আমানতের বড় ধরনের পতন হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এসব ব্যাংকের আমানত কমেছে ১৯ হাজার ৫৪৩ কোটি টাকা। এ সময় সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বিপুল অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পুরো ইসলামি ব্যাংকিং খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ধারার ১০টি ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এই অঙ্ক ছিল ৪ লাখ ৯ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে আমানত কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামি ধারার কয়েকটি ব্যাংক নিয়ে তৈরি হওয়া আস্থার সংকটই আমানত কমার অন্যতম কারণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতার তথ্য সামনে আসার পর এসব ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কয়েকটি ব্যাংক আমানত ফেরত দিতে গিয়ে তারল্য সংকটেও পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে ৫টি ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একীভূত ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। এতে একদিকে পুরোনো আমানত বেরিয়ে গেছে, অন্যদিকে প্রত্যাশিত হারে নতুন আমানত আসেনি।
এর মধ্যে জুন প্রান্তিকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন পর্ষদ গঠনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ওই সময়ে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি ব্যাংক হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পুরো খাতের আমানতে। জুন শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে। ব্যাংকটির আমানত ১ লাখ ৬২ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা, যা পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলোর মোট আমানতের ৩৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের হিস্যা ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংকের ৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের পাশাপাশি প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলোর ইসলামি ব্যাংকিং শাখা ও উইন্ডোর মাধ্যমেও বড় অঙ্কের আমানত পরিচালিত হচ্ছে। জুন শেষে ইসলামি ব্যাংকিং উইন্ডোর বাজার হিস্যা ছিল ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখার হিস্যা ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংক, প্রচলিত ব্যাংকের ইসলামি শাখা ও উইন্ডো—এই তিন মাধ্যমে পরিচালিত ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট আমানত জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এই পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। ফলে তিন মাসে পুরো ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানত কমেছে ১১ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা
















