মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট তীব্র ভর্তুকির চাপ সামলাতে দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ জনগণের যে কষ্ট ও দুর্ভোগ হবে, সে বিষয়ে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বিস্তারিত জানান, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালে সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতায় দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সহায়তা কার্ড এবং সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হতো। দেশের গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এই অপরিহার্য সেবাগুলো কোনোভাবেই বন্ধ করা সম্ভব ছিল না, তাই সেগুলোকে সচল রাখতেই সরকার এই কঠিন ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। সরকারের এই অসহায়ত্ব এবং বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতি সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন খরচ এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম যাতে অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর মনিটরিং বা নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা দ্রুত কেটে যাবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হ্রাস পেলে দেশে জ্বালানি তেলের দাম পুনরায় আগের অবস্থায় অথবা তার চেয়েও কমিয়ে আনা হবে।
















