সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অবস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, গত দুই বছরে চীন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১০০ জনেরও বেশি সদস্যকে সাইবার অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন এবং শান্তিরক্ষা মিশন সংক্রান্ত বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাংলাদেশের নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে জানান, বাংলাদেশ পুলিশে একটি বিশেষায়িত সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের থানা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল ফরেনসিক এবং উন্নত সাইবার ল্যাব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিআইডি (CID)-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চীনের সাইবার ল্যাব ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পরিদর্শনে দেশ সফর করবে। এই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর প্রস্তাব তৈরি করে আনবে।
বৈঠকের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কর্মরত চীনা নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানান। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার। তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিক ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজিপি ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
















