রাজধানীর ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জনপ্রিয় ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবি সূত্র জানায়, শাহ আলম অনিকের সাথে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাতের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, অনিক শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আন্ডারগ্রাউন্ড বা গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া গেছে। শাহ আলম অনিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কিছু সময় আগে তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
শাহ আলম অনিকের বাবার নাম আবু সাঈদ। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে হলেও তিনি রাজধানীর মিরপুরের পর্বত সেনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। ডিবি সূত্রের দাবি, গত শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে অবস্থিত সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এই ঘটনার বিস্তারিত এবং তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অনিক যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয়তার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া, সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে থেকে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্রমতে, সুফল ও অনিক মিলে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।





















