দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষি খাতের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পৃথক প্রস্তাবে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির (সিসিজিপি) ৪৬তম সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ ক্রয় ও আমদানির সুপারিশগুলো অনুমোদিত হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পেশ করা প্রস্তাব অনুযায়ী, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির (ওটিএম) মাধ্যমে ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় মোট ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এই সরবরাহের জন্য খুলনার ফুলতলায় অবস্থিত ‘জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড’-কে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে। কর ও ভ্যাটসহ এই ক্রয়ের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি ডালের দাম পড়ছে ৭৬ দশমিক ৮৯ টাকা।

অন্যদিকে, কৃষিখাতের সার সংকট নিরসনে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় মোট চার লটে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও কানাডিয়ান কমার্শিয়াল কর্পোরেশনের (সিসিসি)-এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। প্রতি লটে ৪০ হাজার টন করে এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করায় এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

একই মূল্যে রাশিয়ার ‘জেএসসি ফরেন ইকোনমিক কর্পোরেশন’ (প্রডিনটর্গ) থেকে আরও ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পাশাপাশি, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘মাআদেন’-এর সাথে চুক্তির আওতায় প্রতি মেট্রিক টন ৮৮৫ মার্কিন ডলার দরে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার কেনা হবে। এই আমদানির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির সভায় উপস্থাপিত সবকটি প্রস্তাবই যথাযথ পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।