চার দিনে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি থেকে ৫০১ কোটি টাকা আমানত উত্তোলনের আবেদন করেছেন গ্রাহকরা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর থেকে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী এসব অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন মনে করেন, আমানত উত্তোলনের জন্য গ্রাহকদের এই আবেদন মূলত ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থারই প্রতিফলন। বুধবার ১৪ অক্টোবর গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানায় ন্যাশনাল ব্যাংক। এর আগে তারল্য পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আমানতকারীদের চাহিদা পূরণে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে এই অর্থ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, গত রোববার ১১ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের কাছ থেকে অর্থ ফেরতের আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। প্রথম দুই দিনেই প্রায় সাড়ে সাত হাজার গ্রাহক আমানত ফেরতের জন্য আবেদন করেন। চার দিন শেষে আবেদন করা অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৫০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম দিনে ১৮৮ কোটি টাকা, দ্বিতীয় দিনে ১২৫ কোটি টাকা, তৃতীয় দিনে ১০০ কোটি টাকা এবং বুধবার চতুর্থ দিনে ৮৮ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন গ্রাহকরা। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে আবেদনকারীদের চাহিদা অনুযায়ী আমানতের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য ব্যাংকের সব শাখা ও এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর আগে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবীন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাফর আহমেদের বৈঠক হয়। বৈঠকে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি, আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের চাহিদা এবং ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকটিতে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও গভর্নরকে অবহিত করেন তিনি। এ সময় গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাম্প্রতিক তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে। আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা অটুট রাখা এবং ব্যাংকটির কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। বিশেষ করে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারী যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এছাড়া ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাংকের সব শাখা ও এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমানতকারীদের চাহিদা পূরণে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাস মেয়াদে এই অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক তারল্য সংকটের মধ্যে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন হলেও চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।