বাঙালি বিয়েতে কনের সাজ বলতেই চোখে ভাসে লাল বেনারসি। দীর্ঘদিন ধরে এই ধারণা প্রচলিত থাকলেও সময়ের সঙ্গে বিয়ের সাজে এসেছে নানা বদল। এখন অনেক কনেই লাল শাড়ির বদলে বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন রঙের শাড়ি বা লেহেঙ্গা। তবু বিয়ের পোশাকে এখনো লালের আধিপত্য চোখে পড়ার মতো। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বিয়েতে কনের লাল পোশাক পরার প্রচলন এলো কেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিতে লাল রং শক্তি, জীবনীশক্তি ও শুভ সূচনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিয়ের ক্ষেত্রে এই রং উর্বরতা, সমৃদ্ধি ও দাম্পত্য জীবনের সুখের প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। ফলে বিয়ের পোশাকে লালের ব্যবহার কেবল সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গভীর সাংস্কৃতিক বিশ্বাস ও ঐতিহ্য। পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক প্রভাবও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা অনেক সময় কনেকে ঐতিহ্যবাহী লাল পোশাকে দেখতে চান। তাঁদের পছন্দ ও পারিবারিক রীতির প্রভাবেও অনেকে বিয়েতে লাল শাড়ি বেছে নেন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাবও লক্ষণীয়। হিন্দু বাঙালি বিয়েতে লাল বেনারসির প্রচলন বিশেষভাবে দেখা যায়। পাশাপাশি মুসলিম বিয়েতেও কনের সাজে লাল রঙের ব্যবহার রয়েছে। ধর্মভেদে বিয়ের রীতিতে পার্থক্য থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ার বিয়ের সাজে লাল রং একটি পরিচিত ও সম্মানজনক স্থান দখল করে আছে।

আধুনিক সময়ে কনের পোশাকের রং ও নকশায় বৈচিত্র্য বেড়েছে। অনেকে লালের বদলে হালকা রঙের শাড়ি বা লেহেঙ্গা বেছে নিচ্ছেন। তবু ঐতিহ্যবাহী লাল বেনারসির আবেদন এখনো অটুট। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিশেলে বিয়ের পোশাকে লাল রং আজও অনেক কনের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। বিয়ে নতুন জীবনের সূচনা, আর ভালোবাসা, শুভকামনা ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে লালকে দেখার সাংস্কৃতিক প্রবণতাই কনের সাজে এই রঙের জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।