দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের রেস্তোরাঁ ব্যবসায় মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। এই সংকট মোকাবিলায় বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে গরুর মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্দিষ্ট নীতিমালা ও সরকারি তদারকির আওতায় সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির অনুমতি চেয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনের দাবি, আমদানির সুযোগ দিলে রেস্তোরাঁগুলোর ব্যয় কিছুটা কমবে এবং ভোক্তাদের জন্য খাবারের দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে। শনিবার রাজধানীর পল্টনে ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চরম সংকটে রেস্তোরাঁ খাত, সংকট নিরসনের দাবিতে শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান খাতটির বিভিন্ন সংকট ও দাবি তুলে ধরেন। সংগঠনের সভাপতি শাহ সুলতান খোকনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দামে রেস্তোরাঁগুলোর জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত মাংস সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহও কম রয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁর খাবারে গরুর মাংস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবার তৈরির খরচও বাড়ছে। সেই বাড়তি খরচ খাবারের দামে যুক্ত করলে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক রেস্তোরাঁ বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবারের দাম বাড়াতেও পারছে না। তিনি বলেন, বাজারে ৮০০ টাকা কেজি দরের গরুর মাংসের একটি অংশে হাড়, চর্বি ও অন্যান্য অংশের পরিমাণ বেশি থাকছে। এতে প্রকৃত মাংসের পরিমাণ কমে যাওয়ায় রেস্তোরাঁগুলোর প্রকৃত ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। গরু পালনের ব্যয় বৃদ্ধিকেও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির একটি কারণ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। ইমরান হাসানের ভাষ্য, আগে প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক কৃষক কয়েকটি করে গরু পালন করতেন। কিন্তু গোখাদ্যের দামসহ গবাদিপশু পালনের সামগ্রিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকের পক্ষে আগের মতো গরু পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গোখাদ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মতে, নির্দিষ্ট নীতিমালা ও কঠোর সরকারি তদারকির মাধ্যমে সীমিত পরিসরে গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দিলে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে দামের ওপর চাপও কমতে পারে। তবে আমদানির ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি। ইমরান হাসান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে গরুর মাংস সংগ্রহ করা গেলে রেস্তোরাঁগুলোও কম দামে গ্রাহকদের খাবার দিতে পারবে। পাঁচ তারকা হোটেল ও কিছু বিশেষায়িত রেস্তোরাঁ বর্তমানে বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অন্য রেস্তোরাঁগুলোকেও এই সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সংগঠনটি বলছে, কোরবানির সময় গরুর চাহিদা বাড়লেও রেস্তোরাঁ খাতে সারা বছরই গরুর মাংসের প্রয়োজন রয়েছে। ফলে কোরবানিকেন্দ্রিক সরবরাহকে সারা বছরের চাহিদা পূরণের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে প্রান্তিক খামারি ও কৃষকদের গবাদিপশু পালনে উৎসাহিত করা এবং বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে তারা। সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ খাতের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, চাল, ডাল, তেল, মাংস, মাছ, মসলা, শাকসবজি ও ডিমসহ প্রায় সব খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, এলপিজি, পানি, দোকানভাড়া, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় রেস্তোরাঁ পরিচালনার ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সংগঠনের দাবি, ব্যয় বাড়লেও অধিকাংশ রেস্তোরাঁ সে অনুযায়ী খাবারের দাম বাড়াতে পারছে না। কারণ দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে একদিকে পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রি কমছে। সংগঠনটির হিসাবে, সার্বিকভাবে রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির ভাষ্য, এই খাত শুধু ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান এবং নগর অর্থনীতির নানা কার্যক্রম জড়িত। তাই খাতটির টেকসই বিকাশ, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান নীতি ও ব্যয় কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। সংকট মোকাবিলায় সংবাদ সম্মেলনে মোট নয় দফা দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান-স্টপ সার্ভিস দ্রুত বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে খাবারের দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বন্ধ, ভ্যাট আদায়ে হয়রানি বন্ধ এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ২ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার। এছাড়া এলপিজি ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, লোডশেডিং কমানো, বিভিন্ন দপ্তরের অভিযানের নামে হয়রানি ও অহেতুক জরিমানা বন্ধ, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প ঘোষণার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন এবং এই খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দলের ট্যাগ দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা এবং এই শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ার দাবিও রয়েছে সংগঠনটির। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির দাবি, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে খাতটির চলমান সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং দেশের খাদ্যসেবা খাতকে আরও টেকসই ও মানসম্মত করা সম্ভব হবে।
৮০০ টাকার মাংসে হাড় বেশি, টিকতে পারছেন না রেস্তোরাঁ মালিকরা

৮০০ টাকার মাংসে হাড় বেশি, টিকতে পারছেন না রেস্তোরাঁ মালিকরা
এ
এই মুহূর্তের বার্তা ডেস্কএই মুহূর্তের বার্তা

আরও খবর
আরও দেখুন→
জাতীয়
বুকে গুলি নিয়েও বঞ্চিত, আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন ছাত্রদল নেতা মিল্লাদ

জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী কি সত্যিই পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন? যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

জাতীয়
প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন ড. নাহরিন ইসলাম খান, সঙ্গে দুই কমিশনার নিয়োগ

জাতীয়
পাঁচ বছরের ক্ষত মুছতে প্রস্তুত বাংলাদেশ, ঢাকায় পা রাখল ক্যারিবীয়রা

জাতীয়
ঐতিহাসিক ঠিকানা ছাড়ছে সচিবালয়, নতুন গন্তব্য আগারগাঁও মেলার মাঠ
আরও অর্থনীতি
আরও দেখুন→
অর্থনীতি
সোনালী ব্যাংকের ৭ হাজার কোটি টাকা সহায়তায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

অর্থনীতি
পঞ্চগড়ের চায়ে রেকর্ড বিপ্লব, মান রক্ষায় কঠোর বার্তা দিলেন চা বোর্ড চেয়ারম্যান

অর্থনীতি
এক সপ্তাহে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা বাড়ল কেন, কী বলছেন বিক্রেতারা

অর্থনীতি
রমজানে কি নিত্যপণ্যের ঘাটতি হবে? যা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী

অর্থনীতি
সঞ্চয়ের টাকা লুট! শ্রীনগরে ৯১ গ্রাহকের ৮ কোটি আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৫
সর্বশেষ খবর
আরও দেখুন→
জাতীয়
বুকে গুলি নিয়েও বঞ্চিত, আল্লাহর কাছে বিচার চাইলেন ছাত্রদল নেতা মিল্লাদ

জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী কি সত্যিই পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন? যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

জাতীয়
প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন ড. নাহরিন ইসলাম খান, সঙ্গে দুই কমিশনার নিয়োগ

জাতীয়
পাঁচ বছরের ক্ষত মুছতে প্রস্তুত বাংলাদেশ, ঢাকায় পা রাখল ক্যারিবীয়রা

জাতীয়










