বিদ্যমান কারখানা টিকিয়ে রাখার দিকেই এখন সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা এবং পোশাক খাতের শীর্ষস্থানীয় নেতা ফজলে শামীম এহসান। তিনি বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি এবং বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি কর্মসংস্থান, শিল্পের সংকট ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমরান চৌধুরী। ফজলে শামীম এহসান বলেন, বর্তমানে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসংস্থান রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু নতুন কর্মসংস্থান তৈরির দিকে নজর দিলেই হবে না, যেসব শিল্পকারখানায় বর্তমানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে, সেগুলো কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায় সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি অব্যবস্থাপনা প্রকট হয়ে উঠেছে। এর কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মতো অনুকূল পরিবেশ যেমন গড়ে উঠছে না, তেমনি বিদ্যমান অনেক কারখানাও আগামী দিনে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে একদিকে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ কমছে, অন্যদিকে বিদ্যমান কর্মসংস্থানও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এটি সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, একটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু উৎপাদন কার্যক্রমই বন্ধ হয় না, সেখানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে কর্মসংস্থান নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় নতুন চাকরি সৃষ্টির পাশাপাশি বিদ্যমান চাকরিগুলো ধরে রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বর্তমান সময়ে নতুন কর্মসংস্থানের পেছনে না ছুটে কীভাবে বিদ্যমান কারখানাগুলো টিকিয়ে রাখা যায়, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলো টিকে না থাকলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও কঠিন হয়ে পড়বে। তাই আগে যেসব কর্মসংস্থান রয়েছে, সেগুলো রক্ষা করতে হবে। এরপর নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দিকে এগোতে হবে। কর্মসংস্থানের বিষয়টি শুধু নতুন কতগুলো চাকরি তৈরি হলো, সেটি দিয়ে বিবেচনা করা উচিত নয়। কতগুলো বিদ্যমান কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা গেল, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি কারখানা বন্ধ হলে সেখানে কর্মরত মানুষ যেমন কাজ হারাবেন, তেমনি নতুন করে সেই কর্মসংস্থান তৈরি করাও সহজ হবে না। শিল্পকারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক জ্বালানি অব্যবস্থাপনা সেই পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব সরাসরি শিল্পকারখানার কার্যক্রমের ওপর পড়ছে। ফলে অনেক কারখানা ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে কর্মসংস্থানের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফজলে শামীম এহসান বলেন, নতুন শিল্পকারখানা তৈরি হলে সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু একই সময়ে যদি বিদ্যমান কারখানা বন্ধ হতে থাকে, তাহলে সামগ্রিক কর্মসংস্থানের হিসাব ইতিবাচক হবে না। তাই কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনায় প্রথমেই বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বর্তমানে কর্মসংস্থানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো বিদ্যমান সুযোগগুলো ধরে রাখা এবং সেগুলো যাতে সংকুচিত না হয়, তা নিশ্চিত করা। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর পাশাপাশি যেসব মানুষ বর্তমানে কাজ করছেন, তাদের কর্মসংস্থান যাতে ঝুঁকিতে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। শিল্প টিকে থাকলে কর্মসংস্থানও টিকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।