রিমান্ড ও কারা হেফাজতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি উত্থাপন করেছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তারা জানান, তানভীরের শরীরে অজ্ঞাত কোনো ইনজেকশন প্রয়োগ, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং গুরুতর।
এবি পার্টির নেতৃদ্বয় আরও উল্লেখ করেন যে, হাসপাতালে গাজী তানভীরের বর্তমান শারীরিক অবস্থা দেখে তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, রিমান্ড চলাকালীন তার শরীরে কোন ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে এবং তাকে কীভাবে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তানভীরের দেওয়া অভিযোগের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তাকে কারাগারের একটি বিশেষ ফাঁসির সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্ধকার পরিবেশে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে তার শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায় এবং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি বিচারকের সামনে এই নির্যাতনের কথা প্রকাশ করলে তার সন্তানদের গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তানভীর।
এবি পার্টির নেতারা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, কোনো নাগরিক যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে তার বিচার হতে হবে আদালতের মাধ্যমে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি প্রদান করা উচিত। তবে রাষ্ট্রীয় হেফাজত কোনোভাবেই নির্যাতনের কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে না। তারা সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে বলেন, রিমান্ডের আগে ও পরে তানভীরের শারীরিক অবস্থার যে পরিবর্তন এসেছে, তার কারণ কী? হেফাজতে তার চিকিৎসার বিষয়টি কীভাবে নিশ্চিত করা হয়েছিল? যদি কোনো ইনজেকশন দেওয়া হয়ে থাকে, তবে সেটির ধরন কী ছিল এবং কার নির্দেশে বা কার মাধ্যমে তা প্রয়োগ করা হয়েছে— এসব বিষয়ে সরকারকে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট জবাব দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নির্যাতন এবং মৃত্যুর অসংখ্য অভিযোগ সামনে এসেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছে, সেখানে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি এই অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা হবে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং এর জন্য দায়ীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।
গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের অবিলম্বে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত কমিটি গঠন, তার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে তারা একটি স্বাধীন, কার্যকর ও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন এবং বর্তমান মানবাধিকার কমিশন আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান।





















