এম এ এহসান রিয়াজ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র থেকে রোগীদের সচেতন করার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রিমি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনরা যেন কোনো দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি বা আর্থিক প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য হাসপাতাল ভবনের ভেতরে ঘুরে ঘুরে মাইকিং করে সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। মাইকিংয়ে ঘোষণা করা হয়

"যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আপনার উপকার করতে বা দ্রুত সেবা পাইয়ে দিতে আসবে, ধরে নেবেন সে একজন দালাল।"

​সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের করিডোর, বহির্বিভাগে ও রোগীদের ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে হ্যান্ডমাইকে এই সচেতনতামূলক প্রচারণা করতে দেখা যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা:মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে হাসপাতাল বয় এইচ এম চান গাজী এ মাইকিং করেন বলে জানা গেছে।

​সরকারি সেবার তথ্য তুলে ধরে মাইকে বলা হয়, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত সকল রোগী এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে প্রাণঢালা অভিনন্দন। সেবানিন, সুস্থ থাকুন। লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করুন এবং সুন্দর ব্যবহারে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন।”

​“দালাল থেকে সাবধান! আপনি দালাল চিনবেন কী করে? যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় আপনার উপকার করতে বা দ্রুত সেবা পাইয়ে দিতে আসবে, ধরে নেবেন সে একজন দালাল। এদের প্ররোচনায় পড়ে হাসপাতালের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে কষ্টার্জিত টাকা নষ্ট করবেন না।”

​হাসপাতালের ভেতরের বিভিন্ন সেবার রুম নম্বর নির্দিষ্ট করে মাইকে জানানো হয়,সকল প্রকার সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের ১১০ নম্বর রুমে, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ১২৮ নম্বর রুমে এবং ইসিজি ১৩২ নম্বর রুমে নির্ধারিত সরকারি মূল্যে করা হচ্ছে।

​এছাড়া হাসপাতালে আসা রোগীদের নিজেদের মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখার অনুরোধ জানানো হয়।

​হাসপাতালে আসা সাধারণ রোগীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অনেক সময় না বুঝে গ্রামের সহজ-সরল মানুষ দালালের খপ্পরে পড়ে ক্লিনিকে গিয়ে প্রতারিত হন। এভাবে হ্যান্ডমাইকে রুম নম্বরসহ সরাসরি তথ্য পাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন এবং দালাল চিনতে সহজ হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, "হাসপাতালে মূলত অসহায় ও দরিদ্র মানুষই চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তবে রোগীর অতিরিক্ত চাপের সুযোগ নিয়ে দালালেরা কৌশলে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। হাসপাতালে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সরকারিনির্ধারিত ফি-তেই করা সম্ভব। তবে বর্তমানে টেকনিশিয়ান না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।"