চলতি বছরের জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধরণের ব্যাপক হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে চিত্রনায়ক আরিফিন শুভর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন—‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্ত ও নেটিজেনদের মনে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, তরুণী এই অভিনেত্রী কি সত্যিই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন? তবে সেই জল্পনার অবসান ঘটে যখন জানা যায়, এটি আসলে তার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়েব ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা মাত্র।
জাহিদ প্রীতম পরিচালিত এবং চরকি প্রযোজিত এই ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৭ অক্টোবর রাত ১২টায়। ছবিয়াল এবং মিনিস্ট্রি অব লাভ-এর যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিটি নিয়ে এখন আবারও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কনটেন্ট মুক্তির ঘোষণা আসার পর থেকেই নেটিজেনদের মন্তব্যের ঘরে উপচে পড়ছে আগ্রহ। কেউ কেউ অধীর আগ্রহে ছবিটির জন্য অপেক্ষা করছেন, আবার অনেকে মজা করে জানতে চাইছেন—অভিনেত্রী কেয়া পায়েল কবে সত্যি সত্যি ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ হবেন বা কবে তার বিয়ের খবর সামাজিক মাধ্যমে জানাবেন?
ভক্তদের এই ব্যক্তিগত প্রশ্নটি এড়িয়ে যাননি কেয়া। অত্যন্ত সাবলীলভাবে তিনি জানান, জীবনের এই অধ্যায়টি অবশ্যই আসবে এবং সেটি হবে অত্যন্ত সুখের। অভিনেত্রী বলেন, “আমি মূলত ভাগ্যে বিশ্বাসী। তাই দেখা যাক, ভাগ্য কী লিখে রেখেছে। যখন সময় আসবে, তখনই হবে এবং সবাই তা জানতে পারবে। তবে আমার মনের ভেতর একটা বিশ্বাস কাজ করে যে, এটি হয়তো হুট করেই ঘটে যাবে।”
ব্যক্তিগত জীবনের এসব আলোচনা সরিয়ে রেখে বর্তমানে কাজের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী কেয়া পায়েল। নাটক, বিজ্ঞাপন এবং ফ্যাশন রানওয়েতে তার কাজের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। অক্টোবরের শুরুর দিকে তিনি দেশের বাইরে যাওয়ার কথা রয়েছে, তাই যাওয়ার আগে হাতে থাকা সব কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করে নিতে চাইছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, অক্টোবরের শেষ দিকে তিনি দেশে ফিরবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব আসলেও কেন তিনি ওয়েব ফিল্মকে বেছে নিলেন, তা নিয়ে জানতে চাইলে কেয়া পায়েল বলেন, “ওয়েব ফিল্মের অফার আমি অনেক আগে থেকেই পেয়ে আসছি। বাংলাদেশে ওয়েব ফিল্মের জোয়ার আসার পর থেকেই বিভিন্ন প্রজেক্টের প্রস্তাব আসছে। তবে আমি সবসময় চেয়েছি এমন কোনো চরিত্রে কাজ করতে, যা আমাকে দর্শকদের কাছে আলাদাভাবে পরিচিত করবে। যেহেতু আমি নিয়মিত নাটকে কাজ করি, তাই ফিল্ম বা ওয়েব ফিল্মে কাজ করার সময় আমি চেয়েছিলাম যেন দর্শক সেখানে ‘স্পেশাল পায়েল’-কে দেখতে পায়। ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ সেই সুযোগটি দিয়েছে আমাকে।”
কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কেয়া অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ফিল্মের টিমটি ছিল অত্যন্ত সক্রিয় এবং সহযোগিতামূলক। তাদের কাজের ধরন এবং প্রতিটি সদস্যের আন্তরিকতা আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে পরিচালক জাহিদ প্রীতম অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে এটি আমার জন্য একটি দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।”
সেনশন প্রেজেন্টস ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ কেয়া পায়েলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ। সহ-অভিনেতার সম্পর্কে কেয়ার মুগ্ধতা প্রকাশ না করে উপায় নেই। তিনি বলেন, “শুভ ভাইয়া খুবই আন্তরিক, পেশাদার এবং অত্যন্ত হেল্পফুল। একজন হিরোর মধ্যে যে গুণাবলী থাকা উচিত এবং শুটিং সেটে একজন হিরোর যে উপস্থিতি সবাই চায়, তার সবই তার মধ্যে আছে। তার কাজের প্রতি একাগ্রতা এবং সেটের পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষমতা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুরুতে আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম যে তার অভিজ্ঞতা ও সিনিয়র পজিশনের সাথে আমি মানিয়ে নিতে পারব কি না, কিন্তু কাজ করতে গিয়ে আমার সেই ভয় একদম কেটে গেছে। তার সাথে কাজ করা আমার জন্য দারুণ ছিল।”
সবশেষে ভক্তদের উদ্দেশ্যে কেয়া বলেন, “৮ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। আমি এই প্রজেক্টটি নিয়ে অত্যন্ত এক্সাইটেড। এটি আমার প্রথম ওয়েব ফিল্ম এবং এর গল্পটি সত্যিই অসাধারণ। আমি চাই আমার ভক্তরা এটি দেখুন এবং দেখে তাদের মূল্যবান মতামত জানান। এবার আমি আপনাদের জন্য বিশেষ কিছু নিয়ে এসেছি, যেখানে আপনারা আমাকে একদম ভিন্ন আঙ্গিকে দেখতে পাবেন।”





















