জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তার দাবি, পুলিশ কাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে নির্যাতনের সময় তাকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম ধরে সম্বোধন করত এবং হুমকি দিত যে, জুলাই আন্দোলনের সাথে যুক্ত প্রত্যেকের পরিণতি হবে এমনই। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তার ফেসবুক পোস্টে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পোস্ট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে একটি লেখা পোস্ট করার পরপরই পুলিশ কাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকে তানভীরের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অমানবিক ও ভয়াবহ। অভিযোগ উঠেছে, তাকে আলো-বাতাসহীন এক অন্ধকার সেলে বন্দি করে রাখা হয়। চিকিৎসকের নির্ধারিত ওষুধের পরিবর্তে তাকে অজ্ঞাত কোনো ওষুধ দেওয়া হয় এবং তার শরীরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এই অকথ্য নির্যাতনের ফলে এক পর্যায়ে তার ডান হাত ও পা সম্পূর্ণ অবশ হয়ে যায়।

শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি চরম মানসিক চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ তাকে নির্যাতনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম ধরে বলত, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এভাবে নির্যাতন করা হবে।’ এমনকি কারাগারে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে গালিগালাজ করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন তানভীর। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রশ্ন তুলেছেন, এটাই কি তারেক রহমানের সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের পুলিশ?

আরও গুরুতর অভিযোগটি হলো, যখন তানভীরের সাথে এই অমানবিক আচরণ করা হচ্ছিল, ঠিক একই সময়ে কারাগারে থাকা আওয়ামী লীগের মামলার আসামিরা বিশেষ সুবিধা ভোগ করছিলেন। তানভীরের দাবি, তারা অবাধে ফোন ব্যবহার করতে পারতেন, উন্নত মানের খাবার পেতেন এবং এমনকি কিছু আসামিকে রাতে গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো এবং ভোরে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হতো।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কথা। বছরের পর বছর বিএনপির রাজনীতিতে ‘ঈদের পর আন্দোলন’ কথাটি একটি রাজনৈতিক কৌতুক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিএনপির অনেক নেতা বিভিন্ন সময়ে ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। এক সময় তার গুলশানের বাসার সামনে বালুর ট্রাক রেখে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, অথচ সেই ট্রাক সরানোর জন্য একজন কর্মীও পাওয়া যায়নি।

আজ জুলাই আন্দোলনের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। তারেক রহমান বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হলো, যাদের আন্দোলনের ফলে এই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে, সেই জুলাইয়ের মানুষদেরই এখন ‘জুলাই জঙ্গি’ বলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আক্ষেপ করে লিখেছেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায়, তাদের সাথেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তবে পুরোনো সেই কথাটিই মনে পড়ে— ‘গাঙ পার হলে মাঝি কোন দুলাভাই!’ অর্থাৎ, উদ্দেশ্য সফল হওয়ার পর মাঝির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে।