রাজধানীর ইসিবি চত্বরের একটি আবাসন প্রকল্পে গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে সংঘটিত হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, খোদ প্রধানমন্ত্রীর আসনে দাঁড়িয়ে এমন দুঃসাহস কারা দেখাতে পারে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, রাতের আঁধারে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধা এবং জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে এবং তা ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। এই লুটপাটের পেছনে দুটি প্রধান কারণের কথা উল্লেখ করেন তিনি— হয় নির্দিষ্ট অংকের চাঁদা না দেওয়া, অথবা পরিকল্পিতভাবে সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা। তিনি বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রীর আসনে চাঁদা তোলা কিংবা সম্পত্তি দখলের এমন দুঃসাহস কাদের হতে পারে?”

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যদি কোনো স্থাপনা অবৈধ হয়ে থাকে বা কেউ তা অবৈধভাবে দখল করে রাখে, তবে তা উদ্ধারের জন্য আইন ও আদালতের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইনি পথ পরিহার করে সারাদেশে বর্তমান প্রভাবশালীদের এমন উন্মত্ত ও আইন বহির্ভূত আচরণ আসলে কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নাহিদ ইসলামের দাবি, বিএনপির চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের এই সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়, বরং এটি গত ৫ আগস্ট বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যখন দেশের তরুণ প্রজন্ম বিপ্লবোত্তর এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর ছিল, ঠিক সেই সময়ে বিএনপির তথাকথিত সন্ত্রাসী বাহিনী সারাদেশে ফ্যাসিবাদীদের গড়ে তোলা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির সিন্ডিকেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শোষণের সাম্রাজ্য দখল করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, বরং চাঁদাবাজি ও দখলবাজির পরিমাণ ও পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তার মতে, বর্তমানে প্রায় আঠারো কোটি মানুষ এসব চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

সরকারের বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এসব অপরাধের বিচার চাওয়া এখন অর্থহীন বলে মনে করেন তিনি। তবে তিনি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে জানান, ইনশাআল্লাহ অবিলম্বে এই চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জিম্মিদশা থেকে প্রিয় মাতৃভূমি মুক্তি পাবে।