ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর অভিযোগে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাঁকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা মো. রাব্বি হোসেন জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের একজন আবাসিক ছাত্র এবং গত বছর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীর স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে রাব্বি হোসেনকে তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের জাবি শাখার কর্মী মৃন্ময় দাস ফেসবুকে শেখ হাসিনার জন্মদিন সম্পর্কিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন। ওই পোস্টের মন্তব্য বক্সে রাব্বি হোসেন ‘শুভ জন্মদিন আপা’ লিখে সাথে একটি লাভ ইমোজি ব্যবহার করে মন্তব্য করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ওই মন্তব্যের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার জন্ম দেয়।

দ্রুতই সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন রাব্বি হোসেন। ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা তাঁকে উদ্ধার করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে আসে। এরপর বিকেল পৌনে চারটার দিকে তাঁকে আশুলিয়া থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, “যতদূর জানতে পেরেছি, ওই ছাত্রের ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি বিবেচনা করে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। যেহেতু ছাত্রলীগ বর্তমানে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন, তাই পুলিশের তদন্তে যদি এই বিষয়ে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে তারা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

তবে অভিযুক্ত রাব্বি হোসেন তাঁর এই মন্তব্যের পেছনে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোটা ছিল নিছক ‘ব্যঙ্গাত্মক’ বা সার্কাজম। তিনি বলেন, “আমি ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। ওই মন্তব্যটি আমি কেবল ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে করেছিলাম।”

অন্যদিকে, আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ এবং অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।