জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের রাজধানীর উত্তরার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত তার বাসার সামনে একদল লোক মিছিল নিয়ে এসে এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর দলটির পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জি এম কাদের বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জনের একদল যুবক মিছিল নিয়ে এসে তার বাসার সামনে হইচই শুরু করে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। বাড়ির প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে বাইরে থেকে বাসা লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়তে শুরু করে। এতে বাসার সামনের জানালাসহ বিভিন্ন অংশের কাচ ভেঙে যায়। তিনি জানান, হামলার সময় তার নাম ধরে গালিগালাজ করা হয় এবং ‘শেখ হাসিনার দালালেরা ও ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ও ‘ভারতের এবং আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে মিছিলকারীরা স্থান ত্যাগ করে। তিনি বলেন, কেন হঠাৎ করে এই হামলা চালানো হলো তা তিনি জানেন না।
হামলার খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালিদ মনসুর জানান, খবর পেয়ে পুলিশের দল জি এম কাদেরের বাসার সামনে গিয়ে কাউকে পায়নি। বাসা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তার ভাষায়, এ হামলা কারা ঘটিয়েছে বা কারা এর সঙ্গে জড়িত তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে কাজ চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার রেজাউল করিম। তিনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে পড়ে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে চেয়ারম্যানের বাসভবনে হামলার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জাতীয় পার্টি। এতে দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করে বলেন, এটি কেবল ভাঙচুর নয়, বরং দলীয় প্রধানকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো ষড়যন্ত্র বা প্রচেষ্টা। দেশে বারবার মব কালচারের ঘটনা ঘটলেও সরকার তা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাপা মহাসচিব জানান, সকালে মিছিল নিয়ে এসে জি এম কাদেরের বাসার দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হলে জানালার কাচ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চেনার চেষ্টা চলছে এবং উত্তরা পশ্চিম থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জিডি ও মামলা করা হবে। তবে ঘটনার পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় পার্টি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সারা দেশে বড় ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মহাসচিব। পাশাপাশি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এই হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে সোমবার বাদ আসর দেশব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছে জাতীয় পার্টি।





















